ডলারের শিল্পগুণ: অল্প খরচে কাজ হলে বেশি খরচের প্রয়োজন কি!

অল্প কথায় কাজ হলে বেশি কথার প্রয়োজন কি?
মাধ্যমিকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনার শিল্পগুণ এর এই উক্তিটি প্রায়ই মনে পড়ে, বলতে পারেন মনে এক প্রকার গেঁথে আছে। অতএব কোনো সাহিত্যের সবচেয়ে বড় গুণ যেমন ‘প্রাঞ্জলতা’, যার অর্থ সহজবোধ্যতা। তেমনি আপনার নিজের অজান্তে কিছু অর্থ অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়ে যাওয়া এবং এটাকে যদি আপনি রোধ করতে পারেন, আর তখন আপনার আয়ের দিকটিও রচনার শিল্পগুণ এর মতোই মনে হবে। যা আমার কাছে ডলারের শিল্পগুণ।

এখানে আমি একটি বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি, বিষয়টি তাদের খুবই কাজে আসবে যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে একটু ভালো করছেন বা যাদের আয়ের পরিমান একটু বেশি। উদাহরণস্বরূপ, একজন ফ্রিল্যান্সারের যদি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার ডলার ইনকাম হয় তাহলে সে ইচ্ছে করলেই প্রতিমাসে কম বেশি চুহাত্তর (৭৪) ডলার বা তার একটু বেশি এবং বছরে প্রায় কম বেশি ৮৯৪ ডলার সে সঞ্চয় করতে পারে।

কিভাবে?
ফ্রিল্যান্সিংয়ে মার্কেটপ্লেসগুলোতে যারা কাজ করছেন তাদের বেশিরভাগই পাইওনিয়ার এর মাধ্যমে টাকা আনয়ন করে থাকে। এখন আপওয়ার্ক অথবা মার্কেটপ্লেস থেকে পাঁচ হাজার ডলার উইথড্রর ক্ষেত্রে আপনি যদি পাইওনিয়ার এর পরিবর্তে ওয়্যার ট্রান্সফার (USD Wire Transfer) ব্যবহার করেন তাহলে প্রতিমাসে কম বেশি চুহাত্তর (৭৪) ডলার বা তার একটু বেশি এবং বছরে প্রায় কম বেশি ৮৯৪ ডলার সঞ্চয় করতে পারেন।

এই লিঙ্কে ক্লিক করে জেনে নিন মার্কেটপ্লেস থেকে কিভাবে ওয়্যার ট্রান্সফার করবেন।

হিসাব নিকাশ:
আপওয়ার্ক থেকে প্রতিবার ওয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে চার্জ কাটে ৩০ ডলার, এখন পাঁচ হাজার ডলার থেকে ৩০ ডলার বাদ দিলে থাকে ৪৯৭০ ডলার। এরপরে ডলার আপনার ব্যাংকে জমা হবে এবং ব্যাংক যে রেটে ডলার ক্রয় করে আপনি সেই রেটেই বাংলাদেশী মুদ্রা বা টাকা পাবেন।

পাইওনিয়ার এর মাধ্যমে উইথড্রর ক্ষেত্রে ২% চার্জ কাটে যা হিসাব করলে প্রতি পাঁচ হাজার ডলার থেকে হয় ১০০ ডলার এবং আপওয়ার্ক থেকে পাইওনিয়ার-এ উইথড্রর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২ ডলার চার্জ কাটে। এছাড়াও পাইওনিয়ার অতিরিক্ত ২.৫ ডলার চার্জ কাটে যদি আপনি বিলম্ববিহীন বা ইমিডিয়েট লোড অপসন সিলেক্ট করেন। সুতরাং এখানে মোট চার্জ ১০৪.(একশত চার দশমীক পাঁচ) ডলার।

এখন পাঁচ হাজার ডলার থেকে ১০৪.ডলার বাদ দিলে থাকে ৪,৮৯৫.৫ ডলার। পাইওনিয়ার এর ২% চার্জ আপনি লগইন করার পর ট্রানজেকশন ডিটেইলস থেকে দেখতে পাবেন। যা নীচের ছবিতে দেখানোর চেষ্টা করা হলো:

অতএব উদাহরণস্বরূপ, প্রতিমাসে খরচ কমলো (৪,৯৭০-৪,৮৯৫.৫) ডলার = ৭৪.৫ ডলার আর বছরে ১২ X৭৪.৫ = ৮৯৪ ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় (৮৯৪ X৮8কম বেশি) = ৭৫,০৯৬ টাকা কম বেশি।

এখানে বলা বাহুল্য যে, কিছু কিছু ব্যাংক হয়তো কিছুটা অতিরিক্ত চার্জ ধরে বা কারো কারো ক্ষেত্রে বাংলাদেশী মুদ্রায় ডলারের রেটেরও তারতম্য হতে পারে, এটা বলতে পারেন ব্যাংকের স্বতন্ত্র কোনো পলিসি। সেই হিসেবে হিসেব করলে দেখা যাবে যে আপনি কিছু টাকা কমও পেতে পারেন। তবে এটা নিশ্চিত যে, এই পদ্ধতি অবশ্যই পাইওনিয়ার এর চেয়ে লাভজনক।

পাইওনিয়ার এর মাধ্যমে যারা ডলার আনয়ন করেন এবং ওয়্যার ট্রান্সফার বিষয়টি জানতেন না বা কখনো এভাবে ভেবে দেখেননি, এখন চাইলেই আপনি এই টাকাটা সঞ্চয় করতে পারেন বা আপনি চাইলে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, গরীব-দুঃস্থ, খেটে খাওয়া মানুষদের সাহায্যার্থেও এগিয়ে আসতে পারেন। আমি সব সময় খরচ বাঁচিয়ে এভাবেই চিন্তা করে থাকি, আর বলতে পারেন এটাই আমার কাছে ডলারের শিল্পগুণ।

তবে এটাও সত্য যে পেওনিয়ারের গুরুত্বের কথা বলে শেষ করা যাবেনা, পেওনিয়ারের গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিসটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইটি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। এর মাধ্যমে দেশের বাইরের ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে খুব সহজেই পেমেন্ট রিসিভ করা যায় বা পেমেন্ট আনা যায়।

পরিশেষে, যদি লেখাটি আপনার কোনো প্রকার উপকারে আসে তাহলে দয়াকরে সকল আইটি ফ্রিল্যান্সার ভাইদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না। দেশের জন্য এবং দেশকে ভালোবেসে কাজ করুন। মার্কেটপ্লেসে আমাদের কাজের গুণমান ঠিক রাখতে সহযোগিতা করুন। কোনো প্রকার প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন, আমি যথাসাথ্য চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর বা আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য।

ডলারের শিল্পগুণ: অল্প খরচে কাজ হলে বেশি খরচের প্রয়োজন কি!

3 thoughts on “ডলারের শিল্পগুণ: অল্প খরচে কাজ হলে বেশি খরচের প্রয়োজন কি!

Write a comment....

Scroll to top
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: