মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কী এবং কিভাবে কাজ করব?

স্মার্টফোনের ব্যবহার আমাদের দেশে অনেক বেড়েছে, বিশেষ করে তরুণদের কাছে। স্মার্টফোনে সবাই কমবেশি অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ব্যবহার করছেন। আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত হাতের মোবাইলটির জন্য তৈরিকৃত সফটওয়্যারকে আমরা সাধারণত মোবাইল অ্যাপ বলে থাকি। আর এর তৈরির পদ্ধতি হচ্ছে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। প্রথম কথা হলো, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট আর সব সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মতই, এটা আলাদা কিছু না। সুতরাং মোবাইল অ্যাপে কাজ করেন, বা ব্যাক-এন্ড সার্ভিস ডেভেলপ করেন, ওয়েব প্রোগ্রামিং, ডেস্কটপ অ্যাপ, গেম ডেভেলপমেন্ট, যা-ই করেন আপনাকে আগে প্রোগ্রামিং শিখতে হবে।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার হতে গেলে কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?
অ্যাপ ডেভেলপার হতে হলে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ালেখা করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। তবে আইটি বিষয়ে অধ্যায়নরত, তাদের জন্য বিষয়টা একটু সহজ হয়। তবে যে কেউই অ্যাপ ডেভেলপার হতে পারবে। অ্যাপ ডেভলপিং যেহেতু সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল কাজ। তাই সবার প্রথমে কম্পিউটারের বেসিক জ্ঞানের পাশপাশি প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এরপর অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ভালোভাবে শিখে নিতে হবে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শেখার পর আসল হলো আপনার তৈরি অ্যাপ্লিকেশনটির নকশা। কি অ্যাপ তৈরি করতে চাচ্ছেন, তার পরিষ্কার ধারণা। এছাড়া অ্যালগরিদম, ডেটা স্ট্র্যাকচার, ডেটাবেজ সম্পর্কে ধারণা থাকলে দারুণ সব অ্যাপ তৈরি করা যাবে। থাকতে হবে সৃষ্টিশীল মানসিকতা, প্রবল ইচ্ছাশক্তি, কাজের প্রতি একাগ্রতা, আন্তরিকতা ও ধৈর্য। যারা নিজে অ্যাপ তৈরি করে প্লে স্টোরে দিতে চায়, তাদের উচিত ইউনিক কিন্তু প্রয়োজনীয় এমন কোনো বিষয়ে অ্যাপ তৈরি করা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আর ক্লায়েন্টদের জন্য তৈরি করতে হলে ওই বিষয়ে পড়াশোনা করে যত্ন সহকারে কাজ করতে হবে।


মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কিভাবে শুরু করবো?

  • সি শিখুন প্রোগ্রামিং বিষয়টা বোঝার জন্য
  • কম্পিউটারের গঠন এবং কার্যপ্রণালী জানতে হবে
  • অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ সিস্টেম, সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং, ক্লায়েন্ট-সার্ভার, বাইনারী এবং ডিজিটাল লজিক – এসবের মৌলিক ধারনা থাকতে হবে
  • ডেটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদম বুঝতে হবে
  • একটি অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং জানা থাকতে হবে
  • গানিতিক যুক্তি প্রয়োগ এবং সমস্যা সমাধানের মানসিকতা থাকতে হবে

এগুলো পদ্ধতিগতভাবে শিখলে ভালো। আর প্রচুর চর্চা করতে হবে নিজে নিজে। প্রচুর আগ্রহ থাকতে হবে। আর এখানে আপনাকে ভালো সময় ব্যায় করতে হবে। তাড়াহুড়ো করলে ভবিষ্যতে একটা জায়গায় আটকে যাবেন, অথবা কাজের মান ভালো হবে না। একা একা শুরু করা কঠিন। প্রথমে কোন সফটওয়্যার ফার্মে ঢুকে যেতে পারলে দ্রুত শিখে যাবেন সবকিছু। তার জন্যে প্রস্তুতি দরকার। নিজে হাতে কিছু কাজ করুন। যে কাজগুলো বহু লোকে বহুবার করেছে সেগুলো করুন। ইন্টারভিউতে অনেক বেশি বেসিক এবং অ্যানালাইটিক্যাল বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করবে। এটা পার করতে হবে। ইনেটারনেটে অনেক সাহায্য পাবেন প্রস্তুতির জন্যে। কোডিং ইন্টারভিউয়ের উপরে ভালো বইও আছে।

কিভাবে কাজ করব আর এর প্রসারতা কতটুকু?
এক কথায় বিভিন্ন সফটওয়্যার এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করার সুযোগ। বর্তমানে প্রত্যেকটি সফটওয়্যার এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সফটওয়্যার এবং ওয়েবসাইট বা ওয়েব ভিত্তিক সফটওয়্যার এর একটা মোবাইল অ্যাপ ভার্সন থাকেই। বর্তমানে মোবাইল অ্যাপ’র চাহিদা অনেকগুণ বেশি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৯৫ শতাংশই মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা গড়ে ন্যূনতম একটি অ্যাপ ব্যবহার করেন। প্রতিদিন দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেন অ্যাপস ব্যবহারে।

এছাড়াও বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাঁদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ৮৬ শতাংশ সময় ব্যয় করেন অ্যাপসে। সুতরাং যে কোনো ডেভেলপার অ্যাপ ডেভেলপ করে প্লে স্টোরে আপলোড করলে কোনো জব করা ছাড়াই দারুণ আয় করতে পারে। জনপ্রিয় একটি অ্যাপ তৈরি করতে পারলে সারা জীবন আর কিছু করতে হবে না। মানে আর্নিং এর কোন চিন্তা করতে হবে না। অন্য কোন ক্রিয়েটিভ কোন কাজে নিজের সময় গুলো কাজে লাগানো যাবে। যারা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চায় তাদের ভবিশ্যৎ তো উজ্জ্বল তার পাশা পাশি যারা সখের বসে করতে চায় তাদের জন্যও দারুন একটা ক্ষেত্র।

কারণ মোবাইল অ্যাপ গুলো থেকে একটা প্যাসিভ ইনকাম সহজেই তৈরি করা যায়। যা থেকে নিজের প্রধান সেলারি বা আয় এর পাশা পাশি একটা বাড়তি ইনকাম করা যায়।বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের মতে, বর্তমানে মোবাইল অ্যাপসের বাজার প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের। ২০২০ সাল নাগাদ তা হবে প্রায় ৫৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের। এই মার্কেট ভ্যালুর ১০% বাংলাদেশে আনতে পারলেও বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব।

পরিশেষে, যদি আপনার কোনো প্রকার উপকারে আসে তাহলে দয়াকরে সকল আইটি ফ্রিল্যান্সার ভাইদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না। দেশের জন্য এবং দেশকে ভালোবেসে কাজ করুন। মার্কেটপ্লেসে আমাদের কাজের গুণমান ঠিক রাখতে সহযোগিতা করুন। কোনো প্রকার প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন, আমি যথাসাথ্য চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর বা আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কী এবং কিভাবে কাজ করব?

Write a comment....

Scroll to top
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: