আইটি ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে তাদের অর্থ বিভিন্ন মুদ্রায় ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে পারেন।

জীবনটা ইচ্ছেঘুড়ি, সত্যিই যদি আপনি ভবিষ্যতের জন্য একটু একটু সঞ্চয় করতে পারেন তাহলে দিনশেষে আপনার হাতের নাটাই যেকোনোভাবে কন্ট্রোল করতে পারবেন। তবে এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় আপনার ইচ্ছাশক্তি এবং মনের নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে প্রয়োজন। যারা আইটি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন তারা ইচ্ছে করলেই যে কোন বৈদেশিক মুদ্রায় বা কারেন্সিতে আপনার অর্থগুলো ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারেন।

Our Dreams Money Home Car Tours & Travels

ভালো জিনিসের ব্যাপারে সবারই জানা দরকার আর এমনই একটি সেবা(যার নাম জার) নিয়ে আমাদের মাঝে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ওয়াইজ। মনে রাখা প্রয়োজন ওয়াইজ আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় ভিত্তিক পরিষেবা। আপনাকে ৪০ টিরও বেশি মুদ্রায় অর্থ পরিচালনা করতে, বেতন-রোল চালাতে, ব্যাচ পেমেন্ট, ক্লায়েন্টদের চার্জ এবং আরও অনেক কিছুতে ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে।

এবার আসি জার কী এবং আমি কীভাবে ব্যবহার করব?
এটাকে বলতে পারেন আপনার একটি সঞ্চয়ী হিসাব। এর মানে জারে থাকা অর্থ আপনার মূল ব্যালেন্স থেকে আলাদা করে রাখা হয় এবং আপনি এটিকে তাৎক্ষণিক আপনার মূল অ্যাকাউন্ট অথবা ডেবিট কার্ডের সাথে ব্যয় করতে পারবেন না, আপনি এই জার থেকে কাউকে অর্থ পাঠাতে বা সরাসরি অর্থ উত্তোলন করতে এটি ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে আপনি চাইলেই যেকোন সময় আপনার মূল ব্যালেন্সে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আবার ব্যবহার করতে পারবেন আর এটাই হল জারের পুরো প্রক্রিয়া।

আপনার নিজের অর্থের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য আপনি যতগুলি ইচ্ছা জার একাউন্ট খুলতে পারেন এবং আপনার পছন্দমত যেকোনো একটি নাম দিতে পারেন যেমন ধরুন:

  • একটি ছুটির দিন বা বড় ক্রয়ের জন্য সঞ্চয় করা।
  • আপনি অর্থ সঞ্চয় করে অন্য মুদ্রায় পাঠাতে চান।
  • আপনি ভ্রমণপিপাসু আর ঘোরাঘুরির জন্য সঞ্চয় করা।
  • অন্যান্য ভবিষ্যতের ব্যয়ের জন্য পরিকল্পনা।

এবার মুল কথা কিভাবে আমি ওয়াইজে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করব এবং আমার ভবিষ্যৎ সঞ্চয় এর জন্য জার একাউন্ট তৈরি করব। এই লিংকে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আপনার ওয়াইজ অ্যাকাউন্টের সাইন আপ করে নিন।

ওয়াইজে আপনার ইউএসডি একাউন্ট পেতে গেলে ন্যূনতম ২০ ডলার যোগ করে তারপর একাউন্ট ভেরিফাই করার মাধ্যমে আপনি ইউএসডি ব্যাংক একাউন্ট পেতে পারেন। এই ২০ ডলার যোগ করতে বিভিন্ন অপশনস রয়েছে, এমনকি অন্য কোন ওয়াইজ ইউজার থেকে ২০ ডলার নিলেও হবে। এরপর আপনার ভোটার স্মার্ট  আইডি অথবা পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করা হলে, সাথে সাথেই আপনার একাউন্টে ইউএসডি একাউন্ট সহ আরো অন্যান্য কারেন্সির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গুলো আপনার ওয়াইজ একাউন্টে যুক্ত হয়ে যাবে।

বিঃ দ্রঃ তবে মনে রাখবেন একাউন্ট ভেরিফাই এর ক্ষেত্রে আপনার পাসপোর্টকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় কারণ বাংলাদেশের ভোটার আইডি কার্ড বা অন্যান্য ডকুমেন্ট তারা সহজে অনুমোদন করতে চায় না।  আমি মনে করি যারা আইটি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন তাদের প্রত্যেকেরই একটি পাসপোর্ট থাকা প্রয়োজন এবং এটি একটি অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস।

আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই হয়ে গেলে আপনার ট্রান্সফারওয়াইজ একাউন্ট অর্থ আদান-প্রদানের জন্য প্রস্তুত এবং এখান থেকে আপনি ভবিষ্যতের জন্য আপনার ইচ্ছামতো ডলার বা অন্যান্য কারেন্সিতে অর্থ সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। এবার দেখে নেই কিভাবে একটি জার একাউন্ট তৈরি করব এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করে রাখবো।

এই লিংকে গিয়ে আপনার পছন্দমত একটা নাম দিন এবং যে কারেন্সিতে অর্থ সঞ্চয় করতে চান সেই কারেন্সি বা মুদ্রা সিলেক্ট করুন তারপর কনফার্ম বাটনে ক্লিক করুন, ব্যাস হয়ে গেল আপনার জার একাউন্ট। এভাবে আপনার যতগুলো ইচ্ছা প্রয়োজন অনুযায়ী জার একাউন্ট তৈরী করে নিতে পারেন এবং নিচের ছবি থেকেও ধারণা নিতে পারেন।

 

জার একাউন্ট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এবার সেখানে যেভাবে আপনি অর্থ সঞ্চয় করবেন:
আপনার জার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর সেটা ওপেন করুন এবং সেখানে আপনি দুটি অপশন দেখতে পাবেন অ্যাড এবং উইথড্র অপশন। ভবিষ্যতের সঞ্চয় এর জন্য অ্যাড অপসন এ ক্লিক করুন, নিচের ছবি থেকেও ধারণা নিতে পারেন।

এবং আপনি যতোটুকু সঞ্চয় করতে চান সে পরিমাণ অ্যামাউন্ট এবং যে কারেন্সিতে অর্থ সঞ্চয় করতে চান সেই কারেন্সি সিলেক্ট করে কনফার্ম করুন। মুহূর্তের মধ্যেই আপনার একাউন্টে আপনার প্রয়োজনীয় অর্থ জমা হয়ে যাবে।

তবে আপনি যখন ইচ্ছা করবেন, যে কোন সময়ে আপনি জমানো অর্থ জার থেকে উইথড্র করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি উইথড্র অপশন এ ক্লিক করুন এবং যে কারেন্সিতে অর্থ আপনার মূল ব্যালেন্সে ফিরিয়ে আনতে চান সেই কারেন্সি বা মুদ্রা সিলেক্ট করে কন্ফার্ম করলে মুহূর্তের মধ্যেই আপনার মূল  ব্যালেন্সে অর্থ চলে আসবে এবং আবার আপনি আপনার ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারবেন। উইথড্রর ক্ষেত্রে যদি একটা কথা বলতে হয় আমি বলব আপনার মনকে একটু শক্ত করুন, পারতপক্ষে উইথড্রর কথা চিন্তা করবেন না, হা হা হা। নিজের উপর বিশ্বাস এবং নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন। আর এভাবেই আপনার সঞ্চয়ী অর্থের পরিমান বিন্দু বিন্দু করে গড়ে তুলুন সিন্ধু।

ওয়াইজ সম্বন্ধে আরো বিস্তারিত জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করে জেনে নিন

পরিশেষে, আপনি যদি আউটসোর্সিং অথবা আইটি ফ্রীল্যান্সার হিসাবে মার্কেটপ্লেসে কাজ না করে থাকেন তাহলে অতি উৎসাহিত হয়ে এখনই একাউন্ট খুলে বসবেন না। দেশের জন্য এবং দেশকে ভালোবেসে কাজ করুন। মার্কেটপ্লেসে আমাদের কাজের গুণমান ঠিক রাখতে সহযোগিতা করুন। কোনো প্রকার প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন, আমি যথাসাথ্য চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর বা আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য।

Suman Saha QA engineer and founder, living in Spain with my family. I also help people move here and settle in, with practical guidance from someone who has done it. I am not a lawyer; for formal immigration representation I refer you on.

Make your next step a clear one.

Moving to Spain, growing your IT freelance work or starting in QA? Find practical support for the chapter you are in.

1 comment

  1. স্পেনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে চাইলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

    ১. স্পন্সরশিপ বা চাকরির অফার খোঁজা:
    • স্পেনে কাজ করার জন্য প্রথমে একটি স্প্যানিশ কোম্পানির কাছ থেকে চাকরির অফার বা স্পন্সরশিপ থাকতে হবে।
    • কিছু জনপ্রিয় জব পোর্টাল যেখানে স্পেনের চাকরির অফার পাওয়া যেতে পারে:
    • InfoJobs
    • LinkedIn Jobs
    • Indeed Spain

    ২. চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন (Authorisation of Residency and Work Permit)
    • যদি স্প্যানিশ কোম্পানি আপনাকে নিয়োগ দিতে চায়, তাহলে তারা আপনার জন্য কাজের অনুমোদন (Authorisation of Residency and Work Permit) পেতে সরকারের কাছে আবেদন করবে।
    • স্প্যানিশ ইমিগ্রেশন অথরিটি সেই আবেদন মূল্যায়ন করবে এবং অনুমোদন দিলে আপনি ভিসা আবেদন করতে পারবেন।

    ৩. ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন জমা দেওয়া:
    • কাজের অনুমোদন পাওয়ার পর, আপনাকে ঢাকাস্থ স্প্যানিশ দূতাবাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে হবে।
    • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের মধ্যে রয়েছে:
    • চাকরির অফার লেটার এবং অনুমোদন নথি
    • আপনার পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ)
    • মেডিক্যাল সার্টিফিকেট
    • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
    • ভিসা ফি প্রদান

    ৪. ভিসা ইন্টারভিউ এবং সিদ্ধান্ত:
    • দূতাবাসে প্রয়োজন হলে ভিসা ইন্টারভিউ দিতে হতে পারে।
    • ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ২-৩ মাসের মতো সময় নিতে পারে, তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।

    ৫. স্পেনে পৌঁছানোর পর কাজের অনুমোদন কার্যকর করা:
    • স্পেনে পৌঁছানোর পর, স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে আপনার কাজের অনুমোদন কার্যকর করতে হবে এবং NIE (Foreigner Identity Number) কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

    স্পেনের ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল এবং সময়সাপেক্ষ হলেও সঠিকভাবে ডকুমেন্টস প্রস্তুত করলে এবং চাকরিদাতার সমর্থন থাকলে আপনি সফলভাবে আবেদন করতে পারবেন।

Leave a Reply